আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিশেষ প্রতিনিধি:
সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পরিবহন সেক্টরে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নামে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। তারপরও কমছে না পরিবহন চাঁদাবাজি। করোনা মহামারীর মধ্যেও কৌশল পাল্টে চলছে তাদের চাঁদাবাজি কারবার। বাংলাদেশ পুলিশ সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে সারাদেশে চাঁদাবাজদের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হচ্ছে। আর এই অভিযান অব্যহত থাকবে। মাদক নির্মূলের পাশপাশি চাঁদাবাজ দমনে র্যাব-১১ এর পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে গত শনিবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা থেকে ১৫ জন পরিবহন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব-১১ এর সহকারী পরিচালক এএসপি. মো. সম্রাট তালুকদার জানান, গত শনিবার (২৬ জুন) বিকাল আনুমানিক ৫’টা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭’টার দিকে র্যাব-১১ এর পৃথক ২ টি অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড পুলিশ বক্সের ২০০ গজ পূর্ব দিকে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের উপর অভিযান চালিয়ে ৭ জন এবং একই থানাধীন সানারপাড় এলকায় অপর অভিযান পরিচালনা করে পরিবহনে চাঁদাবাজি করার সময় আরো ৮ জন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় গ্রেফতারকৃত আসামীদের হেফাজতে থাকা চাঁদাবাজির টাকা যথাক্রমে নগদ ৫,৭৫৫/- টাকা এবং ১৭,২২০/-টাকাসহ মোট ২২,৯৭৫/- টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- ১. ঢাকা জেলার ইমাম হোসেন @ ফাহাদ (২৮), ২. ঢাকা জেলার মো. নুর ইসলাম @ লিছন (৩৬), ৩. মুন্সিগঞ্জ জেলার মো. ইসমাইল হোসেন (৩৬), ৪. কিশোরগঞ্জের মো. আরিফুল রহমান @ শ্যামল (৩৬), ৫. কুমিল্লার মো. বাদশা @ ফাহাদ (৩৬), ৬. চাঁদপুরের মো. সুমন হোসেন মোল্লা (৩২), ৭. শরীয়তপুরের রনি ফকির (২৬), ৮. নারায়নগঞ্জের মুন্না খান (৩১), ৯. ঢাকার মো. আনার হোসেন (৫৫), ১০. রংপুরের মো. বাবু মিয়া (২৮), ১১. নরায়ণগঞ্জের লিটন মিয়া (৩৯), ১২. ঢাকার মো. আমীর আলী (২৬), ১৩. নারায়ণগঞ্জের আনোয়ার হোসেন @ তপু (৩১), ১৪. নারায়ণগঞ্জের চান বাদশা (৪৭), এবং ১৫. ঢাকার আব্দুল কাদের (৫৫)।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃতরা পরিবহন চাঁদাবাজ চক্রের হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড ও শানারপাড় এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রামগামী চলাচলরত পরিবহনের চালক ও হেলপারদের গুরুতর আঘাতের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক পরিবহন প্রতি দৈনিক ৫০০/- টাকা থেকে ১০০০/- টাকা পর্যন্ত অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।